ঢেঁকিছাঁটা চাল বৈশিষ্ট্য বর্ণনা 

ধানের ভেতর থেকে চাল বের করে ভাত হিসাবে খাবার যোগ্য করতে হলে ধানের ২ টি আবরণ সরাতে হয়।প্রথম আবরনটি বেশ শক্ত, যাকে বলে তুষ। ধানের তুষ যদি আলতোভাবে সরানো যায় তাহলে দেখতে পাবেন এর ভেতরে বাদামি আবরণযুক্ত চালের দানা।

এই বাদামি আবরনকে কাঁড়লে (ছাটলে) মিহি গুড়া আকারে চাল থেকে কুঁড়া বের হয়। কুঁড়া সরায়ে চালের দানাকে খাবার যোগ্য করার জন্য চালকে কাঁড়তে হয়। যত কম কাঁড়বেন চাল তত লাল থাকবে যেটা একমাত্র ঢেঁকিতেই করা সম্ভব।

ঢেঁকিছাঁটা সাদা চালের পুষ্টিগুনঃ–

অত্যন্ত পুষ্টিগুন সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা ব্রাউন রাইস পাওয়া খুবই দুস্কর। দেখতে বাদামি এই চালের উপরের আবরন অর্থাৎ রাইস ব্রান বা তুষের প্রায় পুরোটাই থেকে যায় যাতে থাকে চালের মূল পুষ্টি উপাদান সমূহ। ফাইবার ছাড়াও ঢেঁকি ছাঁটা চালে প্রচুর পরিমাণে জিংক, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, এনথ্রোসায়ানিন, আমিষ ও পটাশ থাকে। ভিটামিন বি১, বি২, বি৬ ও বিদ্যমান।

আঁশযুক্ত এ চালে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার যেমন বেশি তেমনি খেতেও সুস্বাদু।

  • বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দের মতে আঁশযুক্ত এই চাল রক্তের শিরা উপশিরা গুলোতে কনো ধরনের ব্লক তৈরি হতে দেয় না। ফলে আপনার হার্ট থাকবে শক্তিশালী।
  • কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চালে থাকা স্টার্চ ও ফাইবার হজম হতে বেশি সময় লাগে বলে ধীরে ধীরে সারাদিনে শরীরে প্রচুর শক্তি যোগান দেয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া হয় না বলে পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখার মাধ্যমে ওজন কমায় এবং রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ঢেঁকি ছাঁটা চালে ইনসলিউবল ফাইবার বেশি থাকে বলে এটি কোষ্ঠ কাঠিন্য রোগীদের জন্য ভালো।
  • ঢেঁকি ছাঁটা চালে থাকা ভিটামিন- বি/ই, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়াম অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
  • ডায়েবিটিস, হার্টের সমস্যা ও হাইপ্রেসারের মানুষদের জন্য ঢেঁকি ছাঁটা চাল আদর্শ খাদ্য।
  • ঢেঁকিছাটা চালে রয়েছে ফাইটিক এসিড, ফাইবার এবং এসেনসিয়াল পলিফেনলস। এটি হলো এমন একটি জটিল কার্বোহাইড্রেট যা আমাদের দেহে সুগারের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এবং আমাদেরকে ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত রাখে।
  • ঢেঁকিছাটা চাল আমাদের দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। এটি ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। যা আমাদের দাঁত ও হাড়কে শক্ত এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়ক।
  • উচ্চ হারে আঁশ থাকায় এটি হজমে সহায়ক এবং গ্যাস শোষণ প্রতিরোধ করে। ফলে হজম প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালি করে তোলে।
  • ঠেকি ছাটা চালে আছে ম্যাগনেশিয়াম যা আমাদের শক্তি বাড়াতে সহায়ক। এটি কার্বোহাইড্রেটস এবং প্রোটিনকে শক্তিতে রুপান্তর করে। যা আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় রাখে।
  • অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশযুক্ত পূর্ণ শস্য যেমন ঠেকি ছাটা চাল পিত্তে পাথর হওয়াও ঝুঁকি কমায়। অ্যামেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান তাদের মধ্যে পিত্তে পাথর হওয়ার ঝুঁকি ১৩% কম থাকে ।

ঢেঁকিছাঁটা চাল মানেই কি লাল চাল?

আমাদের দেশে মোটাদাগে দুই তিন রংয়ের চাল পাওয়া যায়। বেশির ভাগ চালই সাদা। কিন্তু কিছু কিছু চাল আছে লাল। গানজিয়া, আমন, লাল বিরই, খামা, বোরো, জলি, লালবিরুই এগুলি লাল ধরনের চাল। এ জাতীয় চালকে অনেক বেশি কাঁড়লেও এর লালভাব দুর হয় না।

আবার অনেক চাল পুরো সাদা হবে না কিছুটা কালচে রয়ে যাবে যেমন কালিজিরা ধানের চাল। ঢেঁকিতে এ রকম সব ধরনের চালকেই ছাঁটা যায়। তাই চাইলে সব ধরনের চালই বের করা সম্ভব কিন্তু ঢেঁকিতে যেহেতু মেশিনের মতো পুরো কুঁড়া তুলে ফেলা হয় না সেজন্যে সাধারনভাবে এ চাল লালচে ধরনের হয়।এই চালের ভাত মাঝারি মোটা, লালচে টাইপের, খেতে সুস্বাদু।

মোগল মার্ট” এর, ঢেঁকিছাঁটা সাদা চালের বৈশিষ্ট্য এবং কেন খাবেন?

  • সরাসরি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কৃষক হতে বাছাইকৃত ধান থেকে চাল করা হয়েছে।
  •  হাস্কিং মিলে চাল ভাঙ্গানো হয়, এতে করে  চালে ফাইবার অক্ষুন্ন থাকে, যা স্বাস্থ্যসম্মত চাল এর নিশ্চয়তা দেয়।
  • মধ্যস্বত্তভোগী না রাখার কারণে বাজারের তুলনায় চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে  রাখা।
  • কৃষক পর্যায়ে ধানের খেতে সর্বোচ্চ জৈব সারের ব্যবহার।
  • উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকারক কীটনাশকের ব্যবহার এবংক্ষতিকর ইউরিয়া, পলিশ, ব্রাইটনার ও স্যালাইন পানি মুক্ত।
  • উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্যাকেজিংয়ে নিজস্ব তদারকি যা শতভাগ ভেজালমুক্ত ও খাঁটি চাল এর নিশ্চয়তা দেয়।
  • নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢেঁকি থেকে চাল তৈরী করা হয়।
  • এই চালের ভাত মাঝারি চিকন, বাদামি টাইপের, খেতে সুস্বাদু।
My Cart
Close Wishlist
Categories